1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
দুর্গম চিকনচান কার্বারীপাড়ায় দীর্ঘদিনের পানির সংকটের অবসান ঘটালো খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনী, শতাধিক পরিবারে স্বস্তি - আলোকিত খাগড়াছড়ি

দুর্গম চিকনচান কার্বারীপাড়ায় দীর্ঘদিনের পানির সংকটের অবসান ঘটালো খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনী, শতাধিক পরিবারে স্বস্তি

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ২২০ বার পড়া হয়েছে
মো. আবদুর রউফ:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দুর্গম চিকনচান কার্বারীপাড়ায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকটের সমাধান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয়দের মৌলিক চাহিদা পূরণে গৃহীত এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে স্থাপিত সোলার প্যানেলচালিত সুপেয় পানি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান, পিএসসি। প্রকল্পটির মাধ্যমে এলাকার শতাধিক পরিবার এখন নিয়মিত নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় এতদিন মানুষকে পাহাড়ি ঝিরি ও ছড়ার অনিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হতো। বর্ষাকালে পানির উৎস দূষিত হয়ে যেত এবং শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত তীব্র পানির সংকট। ফলে দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো স্থানীয়দের। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিলেন। দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সোলার প্রযুক্তিনির্ভর পানি প্রকল্পটি এলাকাবাসীর জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডার স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পটির সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।’
এসময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বাগতা চাকমা বলেন, এতদিন আমরা বাধ্য হয়ে পাহাড়ি ঝিরি ও ছড়ার পানি ব্যবহার করতাম। বর্ষাকালে পানি দূষিত হয়ে যেত এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। এই প্রকল্প চালুর পর আমরা নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছি, যা আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে একটি টেকসই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে দুর্গম এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু পানির সংকটই দূর করে না, বরং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ